# উটান্তর নিমিশে চোখের সামনে কালো নেমে এলো, থমকে গেলাম। বেশ কদিন ধরে লোডশেডিং খুব ঝামেলা করছে। কিন্তু চারদিক শুনশান। পিনপতন নীরবতা। আগ বাড়ালাম, মোটামুটি তো ধারনা আছে ঘরের কোথায় কী রাখা। কী যেন পায়ে বাঁধল। ধড়াম করে পড়লাম মেঝেতে। মেরেছে! হাতটা মনে হয় ভেঙ্গেছে। হাছড়ে পাঁচরে চার পায়ে ভর দিয়ে উঠলাম। ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছি। নাহ, হাত ভাংগেনি। নয়তো হামা দিতে গেলেই ভেঙ্গে চুড়ে পড়তাম। কিন্তু কোমরে দুর্দান্ত ব্যাথা। হামাগুড়ি দিয়ে সামনে আগালাম। আশ্চর্য, কোন শব্দ নেই কোথাও। আচ্ছা, পড়ার শব্দও তো পাইনি। তবে কি কান গেলো? হামাগুড়িতে দরজার কাছে পৌঁছে গেছি। তালা মারা ছিলো না। মাথা দিয়ে গুঁতো মেরে খুলে ফেললাম। আকাশে এক ফালি চিকন চাঁদ দেখা যায়। ওর কিরণে ধরণীর তিমির মোটেও দূরীভূত হচ্ছে না, কিন্তু চাঁদখানা দেখে ভালো লাগছে। তিন মুল্লুকে একমাত্র আলোক উৎস যেন। ঘরোয়া অনুভব করছি। হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছি। চার হাত-পায়ের নিচে নুড়ি পাথর পড়ছে। কিন্তু ব্যাথা করছে না। কেমন শক্ত শক্ত অনুভূত হচ্ছে ওখানে। পুলক অনুভব করলাম। হেটে যাচ্ছি। হেটেই যাচ্ছি। বাতাসের সোঁদা গন্ধের চাদর আমায় আবেশে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। গলার নিচে কেমন উষ্ণ অনুভূত হচ্ছে বেশ খানিকক্ষণ ধরে। কী যেন ছলকে ছলকে যাচ্ছে ভেতরে। তাজ্জব ব্যাপার। পানি তো পান করিনি তেমন। আর ছলকালে পাকস্থলীতে ছলকানোর কথা। ভাবনা থমকে গেলো সামনে এক অবয়ব দেখে। কাছে গেলাম চার পায়ে হেটে। কাটাওয়ালা গোল গোল ক্যাকটাস! টসটসে রসে ভরা ক্যাকটাস! দেখে আমার ধারওয়ালা জিভে জল চলে এলো। মুখে তুলে নিলাম ক্যাকটাস, আরামসে কামড় দিলাম। ক্যাকটাস চাবাতে চাবাতে অনুভব করলাম, আমার পিঠে মস্ত বড় এক কুঁজ। ![](https://i.imgur.com/IIv1HLO.png) — notacinephile photo credit @zayedsakib