একদা এক ব্রাহ্মণ ভলতেয়ারের নিকট আপনার দুঃখ প্রকাশ করিলেন, "ভেবেছি না জন্মালেই ভালো হতো বৈকি!"
ভলতেয়ার শুধোলেন, "ক্যা? কী সমস্যা?"
ব্রাহ্মণ কাতর কণ্ঠে বলিলেন , "এই চল্লিশ বৎসর যাবত জ্ঞান সাধনা করিলাম। পিছে ফিরিয়া তাকাইয়া দেখি কেবলই সময় নষ্ট করিয়াছি মামা। উপলব্ধি করিয়াছি বটে আমি পদার্থ হতে গঠিত, কিন্তু কচু কিছুতেই ভাবিয়া কুল কিনারা করিতে পারিলাম না ভাবনাচিন্তার উদ্ভব হয় কোথা। জানিনা নিজ ভাবনারাজি ভক্ষণ বা হন্টনের মত সাধারণ কম্য কিনা। বকবক করিতে পছন্দ করি বৈকি, এরপর মাথামুণ্ডু কী বলিলাম ভাবিয়া লজ্জায় কুণ্ঠিত হইয়া যাই।"
একই দিবসে ভলতেয়ার এলাকা চক্করের মধ্যিখানে ব্রাহ্মণের প্রতিবেশী এক খাটিয়া খাওয়া মানুষের সাথে আলাপ জুড়িলেন। আত্মা কী দিয়ে তৈরি (ভলতেয়ার এখানে আত্মা বলতে কনশাসনেস বোঝাচ্ছেন) এই প্রশ্নের কোনরূপ সদুত্তর দিতে না পারিয়া জীবনে সে কখনও দুঃখে পতিত হইয়া হাহাকার করিয়াছে কিনা। চান্দু ভলতেয়ারের প্রশ্ন বুঝিলোই না। সে জানাইল, ভগবান বিষ্ণুর চরিতে বিশ্বাসের আলাপ আর গঙ্গার ময়লা পানিতে পাপ-শাপ মুক্তির কথা। জানাইল তার সন্তুষ্টি আর জম্পেশ সুখী জীবনের কথা। অজ্ঞ গরীব মানুষটির এই সুখ দেখিয়া ভলতেয়ার ব্রাহ্মণ পানে ছুটিলেন।
ব্রাহ্মণকে বলিলেন, "মামা, লজ্জ্বা করেনা আপনার বাড়ির পাশে যে এক মূর্খ, চিন্তাহীন লোক সুখে আরামে পেট বাজাইতেছে, আর আপনি পণ্ডিত হইয়া মনোবেদনায় কোকাইতেছেন?"
ব্রাহ্মণ বলিল, "ভেরি ট্রু। বহুবার নিজেরে বলিয়াছি ওই চান্দুর মত মূর্খ হইলে শান্তিতে থাকিতে পারিতাম। কিন্তু মামা, অমন সুখ আমি চাইনা।
শুনিয়া ভলতেয়ার যারপরনাই অভিভূত হইলেন।"_ *Voltaire, Romances, 450*

-- notacinephile