# মরীচিকা
একঘেয়ে নিয়মে জীবন চলতে থাকে। কোনো প্রশ্ন নেই, কেবল ভীড় ঠেলে সামনে এগোতে থাকা একতাল প্রতিযোগী জনতা। কেউ জানেনা কিসের এত তাড়া, পিছনে ফিরে তাকাবার ফুরসৎ নেই।
কিন্তু হঠাৎ একদিন মধ্য দুপুরে থমকে দাঁড়ায় হয়তো কেউ কেউ। কিংবা ভোর রাতে ঘুম ভেঙে। ভাবার প্রয়াস পায়, এসব কিছু কেনো? কার তরে? আর এত আয়জনের মাঝে আমি কোথা?
কিন্তু এ চিন্তা শুধু ক্লান্তিকরই নয়, বরং আতঙ্কও ছড়ায়। অস্তিত্বের খোঁজে জাপটে ধরতে আসে এক ফাঁপা, নিশব্দ নিঃসঙ্গতা।
সবকিছুই কেবলই মরীচিকা। সবাই অন্তরের গভীরে কোথাও চাপা দিয়ে রাখে এটা। সম্মুখ সমরে যেতে রাজি নয়য় কেউ। মানুষ প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায় আজন্ম দৌড়াতে দৌড়াতে, নিজেকে বঞ্চিত করতে করতে টেরও পায়না কখন জীবনটা ১৮ থেকে ৮১ হয়ে যায়।
অর্ধেকটা জীবন কেটে যায় পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট আর স্বনামধন্য কোথাও পড়তে পারবার সাধনায়, বাকি অর্ধেক জীবন চলে যায় চাকরি করে জীবন যোগানের চালনায়।
কেবল সামনে এগিয়ে যাবার যে এক দুর্নিবার নেশা, কেউ কি একবার ভুল করেও পিছনে তাকিয়ে দেখে? এই বস্তুকেন্দ্রিক আকুলতায় কেটে যাওয়া জীবন? কি দেখে হুইল চেয়ারে বসা বৃদ্ধটা যখন ফিরে তাকায়। কেমন লাগে প্রতিযোগিতা থেকে বিচ্যুত হওয়া জীবনটাকে?
যত আমাদের সমৃদ্ধি বাড়ছে, সংকীর্ণ হচ্ছি তত আমরা। সম্পর্কের দুরত্ব বাড়ছে, কমে আসছে আমাদের সহনশীলতা।
আমরা যত বেশী যোগাযোগ করছি, তত বেশী একাকীত্বতে ভুগছি।
এত মানুষ চারপাশে, কত গান আর কোলাহল তবুও সবাই কি ভীষণ নিঃসঙ্গ একাকিত্বের চাদরে মুড়িয়ে থাকছে!